
ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০২৬:নিজস্ব প্রতিবেদন ঃবাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA)-এর ঢাকা জেলা সার্কেল অফিসারদের যোগাযোগের তথ্য গোপন রাখার কারণে লাখ লাখ নাগরিক প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেনসহ জরুরি সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকরা অন্ধকারে ঢিল ছুড়তে বাধ্য হচ্ছেন। অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইন, বারবার ঘুরে আসা, সময় ও অর্থের অপচয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দালালদের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
National Information Broadcasting এবং BRTA-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (brta.gov.bd ও Dhaka সার্কেলের পেজ) ঢাকা জেলা সার্কেলের অফিসারদের (সহকারী পরিচালক, মোটরযান পরিদর্শক ইত্যাদি) নাম, পদবি ও ইমেইল প্রকাশিত থাকলেও মোবাইল নম্বর সম্পূর্ণ অনুপস্থিত বা ইচ্ছাকৃতভাবে মাস্ক করা (যেমন: ১৯১১১১১১১১১)। ফলে জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অফিসারের সাথে আগাম যোগাযোগ করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
একজন ভুক্তভোগী নাগরিক বলেন, “লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে অফিসে গিয়ে দেখি সংশ্লিষ্ট অফিসার অনুপস্থিত। আগে থেকে ফোন করে সময় নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হয়। এতে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে।”
সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট সরকার গড়ার ঘোষণা দিলেও BRTA-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এখনও পুরনো আমলের অস্বচ্ছ পদ্ধতি চলছে। BRTA সার্ভিস পোর্টাল (bsp.brta.gov.bd) চালু থাকলেও সব সেবা এখনও পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে অফিসারের সরাসরি যোগাযোগ জরুরি। কিন্তু মোবাইল নম্বর না থাকায় নাগরিকরা বাধ্য হয়ে দালালদের কাছে যান, যা দুর্নীতির সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
BRTA ইতিমধ্যে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগে বারবার আলোচিত। যোগাযোগের এই অভাব সেবা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও দুর্নীতিপ্রবণ করে তুলছে বলে নাগরিকদের অভিযোগ।