
আব্দুল্লাহ আল মামুন হরিনাকুন্ডু সংবাদদাতা্ ঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার চর-ত্রিবেণী গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে এক গৃহবধূর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা। নিজের মেয়ের জন্য পাত্র ঠিক করা সেই যুবকের সঙ্গেই শেষমেশ উধাও হয়েছেন তিন সন্তানের জননী রিমি খাতুন (৩৫)। ঘটনাটি ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে শৈলকুপার বাসিন্দা রাসেদ আলী (৩৮)-এর সঙ্গে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার রিমি খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তান রয়েছে। পেশায় গাড়িচালক হওয়ায় জীবিকার তাগিদে রাসেদ আলীকে অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হতো।
প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পার্বতীপুর গ্রামের যুবক মামুন হোসেন (২৪)-এর সঙ্গে পরিচয় হয় রিমির। নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দেওয়া ওই যুবকের সঙ্গে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে নিজের মেয়ের অজান্তেই মামুনকে মেয়ের পাত্র হিসেবে ঠিক করেন রিমি। কিন্তু এতে আপত্তি জানায় মেয়ে। বিষয়টি কেন্দ্র করে পরিবারে অশান্তি ও মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে বড় মেয়ে আত্মহত্যা করে।
এ ঘটনার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে বরং আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, রিমি ও মামুনের মধ্যে গোপনে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী রাসেদ আলী স্ত্রীকে ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
সবশেষে গত ২৭ এপ্রিল স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে দুই ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যান রিমি।
ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো ত্রিবেণী ও আশপাশের এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই আলোচনা—“হবু জামাইয়ের সঙ্গে গৃহবধূর পলায়ন”।
এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, গৃহবধূ যেখানেই থাকুক, অন্তত ছোট দুই সন্তানকে যেন দ্রুত বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন এলাকায় ভাইরাল হয়ে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।