
ঢাকা, ৪ মে ২০২৬ (সোমবার): সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সরকার যেকোনো মূল্যে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই খাতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়-এ বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি-র নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জনস্বার্থে কাজ করে যাওয়ার জন্য যাত্রী কল্যাণ সমিতিকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী এবং পরিবহন খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশের মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন আইন ও বিধিমালা সংস্কারের দাবি জানান। তিনি সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ফোরামে যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমিতির নেতারা বলেন, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা পরিবহন খাতের বিভিন্ন কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করে এলেও পরবর্তীতে তা বাতিল হওয়ায় মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো এককভাবে খাতটি পরিচালনা করছে। এর ফলে পরিবহন নৈরাজ্য, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা পূর্বের মতো বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কমিটিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জোর দাবি জানান।
সভায় বাস ভাড়া নির্ধারণ, আইন সংস্কার, যাত্রীসেবা উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পাশাপাশি যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিত্ব রাখার আহ্বান জানানো হয়। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উত্থাপিত দাবিগুলো মনোযোগ সহকারে শুনে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া সমিতির পক্ষ থেকে অর্পনা রায় দাশ, খায়রুল আমিন, তাওহীদুল হক, মাহমুদুল হাসান রাসেল ও আলমগীর কবির বিটুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত