
আব্দুল্লাহ আল মামুন হরিনাকুন্ডু সংবাদদাতা ঃ ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার নিভৃত পল্লী জোড়াদহ গ্রামের এক অতি সাধারণ শিক্ষকের কুটির আলো করে জন্ম নেওয়া আনিসুজ্জামান সিদ্দিক ফকরুল আজ নিজ মেধা, মনন ও অবিচল নিষ্ঠার বলে স্পর্শ করেছেন সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখর। ৪৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট পদে তাঁর এই সুপারিশপ্রাপ্তি কেবল এক ব্যক্তিক বিজয় নয়; বরং তা সমগ্র জোড়াদহ গ্রামের এক ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল পুনরুত্থান।
এই মাটির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ক্ষণজন্মা মনীষীদের গৌরব। তৎকালীন পাকিস্তান আমল থেকে এই পর্যন্ত জোড়াদহ গ্রামেরই কৃতী মেয়ে মোছাঃ লাভলী খাতুন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গ্রামের নাম উজ্জ্বল করছেন। কালের বিবর্তনে, সুদীর্ঘ প্রায় ৬০ বছরের এক দীর্ঘ শূন্যতা ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে, সেই একই মাটির সুযোগ্য সন্তান আনিসুজ্জামান সিদ্দিক ফকরুল পুনরায় জোড়াদহ গ্রামকে এনে দিলেন এক অনন্য প্রশাসনিক গৌরব।
"যে মাটির বুক চিরে অন্ন জোগান পিতা, সেই মাটির বুক থেকেই জন্ম নেয় স্বপ্নজয়ের দৃঢ়তা।" কোনো জাঁকজমকপূর্ণ পটভূমি কিংবা বিলাসিতা ছিল না, ছিল কেবল এক বুক স্বপ্ন আর হিমালয়সদৃশ প্রত্যয়। এক নিষ্ঠাবান শিক্ষকের সন্তান হয়ে প্রমাণ করেছেন—প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও চরম অধ্যবসায়ের সামনে সমস্ত প্রতিকূলতা মাথা নত করতে বাধ্য। দারিদ্র্য ও সীমাবদ্ধতার শৃঙ্খল ভেঙে তাঁর এই 'শেকড় থেকে শিখরে' আরোহণের গল্প আগামী প্রজন্মের জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
জোড়াদহ গ্রামের মুখ উজ্জ্বলকারী এই নক্ষত্রকে জানাই আমাদের হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে সশ্রদ্ধ সালাম ও উষ্ণ অভিনন্দন।
হে নবীন সিভিল সারভেন্ট, আপনার মেধা, সততা ও দেশপ্রেমের আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমজনতার জীবন। মেহনতি মানুষের স্বপ্নপূরণের সারথি হয়ে আপনি বয়ে আনুন প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ গৌরব। আপনার আগামী পেশাগত জীবন হোক কণ্টকমুক্ত ও সাফল্যমণ্ডিত!