
সোহেল রায়হান, জেলা প্রতিনিধি (পিরোজপুর)ঃ
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সজল দেউড়ি নামের এক বায়িং হাউজ কর্মী স্ত্রীর পরকিয়ার কারনে এবং পারিবারিক কলহের জেরে মানসিক কষ্টে আত্মহত্যা করেছে। গত মঙ্গলবার (২৯ জুন) সজল তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে ভিডিও কল দিয়ে লাইভ ভিডিওতে ঢাকার টঙ্গী এলাকার একটি ভাড়া বাসার ফ্যানের সাথে গামছা বেঁধে ফাঁসিতে ঝোলেন। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই গলায় ফাঁস লেগে তিনি মারা যান। পরক্ষনে ঐ বাড়ির বাড়িওয়ালা ও পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীদের প্রচেষ্টায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে সজলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা টঙ্গী থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় সজলের মা লক্ষী দেউরীর ভাষ্যমতে, সজল যখন মোবাইলে ভিডিও কল করে আত্মহত্যার কথা বলে তখন তার স্ত্রী রঞ্জিতা বিভিন্ন প্রকার উস্কানিমূলক কথা বলে এবং সজলকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়। এতে সজল মানসিক ভাবে আরো ভেঙ্গে পড়ে এবং তৎক্ষনাৎ ফ্যানের সাথে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এর আগে আমার ছেলের সাথে পুত্রবধু রঞ্জিতা প্রায় সময়ই খারাপ ব্যবহার করতো এবং ছেলেকে মরে যাওয়ার কথা বলতো। এমনকি সংসার জীবনে একসাথে থাকা অবস্থায় আমার ছেলের গায়ে রঞ্জিতা হাতও তুলতো। আমি কিছু বললে আমার সাথেও খারাপ ব্যবহার করতো এবং আমাকেও মারার জন্য তেড়ে আসতো। এই রঞ্জিতা মেয়েটিই আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য দ্বায়ী। তাছাড়া রঞ্জিতা কয়েকটা ছেলের সাথে পরকিয়ায় জড়িত ছিলো। এমনকি পার্শ্ববর্তী ভুপল মাস্টারের ছেলে শোভনের সাথে সে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত ছিলো। সবসময় কথা বলতো এবং ঘুরতেও যেতো। আবার লোকমুখে শুনেছি, আমাদের বাড়ির পাশে এক মুরগীর ফার্ম ব্যবসায়ী সোহাগদল ইউনিয়নের বরছাকাঠি ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে হাসান নামের এক ছেলের সাথেও তার অবৈধ সম্পর্ক ছিলো। বারবার বারন করা সত্যেও সে কারো কথা তোয়াক্কা করতো না। ইদানিং সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো।
মৃত সজলের ভাই রঞ্জিতার দেবর সুজিত জানান, ভাবিকে প্রায় সময়ই দেখতাম কারো সাথে মোবাইলে কথা বলতো এবং অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত ছিলো। সেটা এলাকার অনেকেই জানতো। সে সারাক্ষন ফেইসবুক ও টিকটকে ব্যস্ত থাকতো। আমাদের পরিবারের কারো সাথে সে দীর্ঘদিন যাবৎ কোনো ভাল ব্যবহার করতো না এমনকি মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধমকিও দিতো। তার কারনে সবসময় পরিবারে কলহ লেগেই থাকতো।
এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ দীপেন্দ্র বলেন, শুনেছি সজল ঢাকায় অবস্থান করে একটি বায়িং হাউজে ভাল বেতনে কাটিং মাস্টারের চাকরি করতো। স্ত্রীর বেপরোয়া চলাফেরা ও পরকিয়ার কারনে স্ত্রী রঞ্জিতাকে শাশুরীর কাছে বাড়িতে রেখে যায়। তবুও স্ত্রী রঞ্জিতার বেপরোয়া চলাফেরা এবং অবৈদ সম্পর্কের অভ্যাস ছাড়তে পারেনি। এ নিয়ে তাদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিলো। তারই সূত্র ধরে সজল মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে।
এলাকাবাসী / প্রতিবেশীরা (নাম না প্রকাশ করার শর্তে) বলেন, আমরা যতোটাকু দেখেছি রঞ্জিতা মেয়েটি তেমন সুবিধার ছিলোনা। তার চলাফেরাও ছিলো সন্দেহজনক। বিভিন্ন ছেলেদের সাথে মাঝে মাঝে চলাফেরা ও ঘুরতে যাওয়া সহ অবৈধ পরকিয়ায় লিপ্ত ছিলো। বোরকা পড়ে বের হতো এবং বেপরোয়া চলাফেরা করতো।
সজলের মৃত্যুর পরদিন পরিবার বা সমাজের লোকজন রঞ্জিতার মোবাইল ফোন জব্দ করে এবং তথ্য প্রমানের জন্য মোবাইল চেক করলে তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ফেইসবুক আইডি, ম্যাসেন্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টিকটক আইডিও রিমুভ করে দিয়েছে। যাতে পরকিয়া এবং স্বামীকে আত্মহত্যার উস্কানি/ প্ররোচনা দেওয়ার কোনো তথ্য বা আলামত না পাওয়া যায়। আর মৃত সজলের মোবাইল ফোন টঙ্গী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সজলের স্ত্রী রঞ্জিতা সকলের অভিযোগ অস্বীকার করেন তবে শোভনের সাথে তার পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক স্বীকার করেন।
আত্মহত্যাকারী সজল দেউরী পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলাধীন ১ নং বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রাম ৯ নং ওয়ার্ডের স্বপন দেউরীর ছেলে। আর সজলের স্ত্রী রঞ্জিতা পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলা দীর্ঘা ইউনিয়নের গোবরধন গ্রামের মৃত শংকর মন্ডলের মেয়ে।
উল্লেখ্য, সজল ও রঞ্জিতার সংসার জীবন প্রায় ৮ বছরের। তারা দুজন দুজনকে ভালবেসে বিয়ে করেছিলো। তাদের সংসারে ৬ বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।