
ধামরাই প্রতিনিধি:ঢাকার ধামরাই উপজেলায় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সাতটি ইটভাটা পরিচালিত হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ আইন ও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই এসব ইটভাটা চালু থাকলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধামরাই ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জালালের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব ইটভাটা বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন সংক্রান্ত বিধিমালা অমান্য করে ভাটাগুলো চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত ইটভাটাগুলোর অবস্থান—সততা ব্রিকস–১: গ্রাফিক্স ফ্যাক্টরির পেছনে।
সততা ব্রিকস–২: গ্রাফিক্স ফ্যাক্টরির উত্তর পাশে।আলিফ ব্রিকস: ভালুম,কালামপুর।
সততা ব্রিকস (৪ নম্বর): গোড়াকান্দা। লামিয়া ব্রিকস: কাওয়ালি পাড়া।
পিউটার ব্রিকস: জালসিন ব্রিজ সংলগ্ন।
পিউটার ব্রিকস: বান্নল বোচর বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব ইটভাটা থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ধোঁয়ার কারণে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং ফসল উৎপাদনেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি কয়েকটি ইটভাটা স্কুল ও বসতবাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় শিশু ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, দিনের পর দিন এই দূষণের কারণে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তারা। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের কারণে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
তাদের দাবি, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জালালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সচেতন মহলের মতে, পরিবেশ আইন অমান্য করে এভাবে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।