শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ন

নেছারাবাদে সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ : ক্লাসে উপস্থিতি অর্ধেক

প্রতিবেদকের নাম / ৪০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

সোহেল রায়হান, জেলা প্রতিনিধি (পিরোজপুর)ঃ”১৫ নং ভাইজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” যেটি পাকিস্তান আমলে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলাধীন সোহাগদল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিগত বছরগুলোতে শিক্ষার মান, ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে বেশ সুনামের সাথে নেছারাবাদের ঐতিহ্যবাহী প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বর্তমান সময়ে এবং কয়েক বছর যাবত এখানে নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষাদান, পরীক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে শিক্ষার মান, ছাত্র ছাত্রী ভর্তি ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আশানুরূপ লক্ষ্য করা যায় না। সরেজমিন তথ্যে জানা যায়, বিদ্যালয়ে মোট ৫ জন শিক্ষক, ১ জন পিওন (এমএলএসএস) রয়েছেন এবং মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ জন। এর মধ্যে প্রাক প্রাথমিকে ১৩ জন, ১ম শ্রেণীতে ১৮ জন, ২য় শ্রেণীতে ১৫ জন, ৩য় শ্রেণীতে ১০ জন, ৪র্থ শ্রেণীতে ১৬ জন, ৫ম শ্রেনীতে ০৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে মোট ৮১ জন শিক্ষার্থী থাকলেও প্রতিদিন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। যেখানে উপস্থিতির গড় ৫০-৬০%।

এছাড়া আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) প্রাথমিকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরুর দিন সরেজমিনে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৩য় শ্রেণীর ৮ জন, ৪র্থ শ্রেনীর ১২ জন এবং ৫ম শ্রেণীর ৮ জন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৭ মে) সারাদেশে প্রাথমিকের প্রথম সাময়িক পরিক্ষা (প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন) ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং পরিক্ষা কার্যক্রম শেষ হবে ১৩ মে বুধবার।

শিক্ষার্থীদের ১০০% উপস্থিতি না থাকা এবং ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক – মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক আমাদের স্কুলের সকল শিক্ষা কার্যক্রম যথাযথভাবে চলছে। ১৫ নং ভাইজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানও উপজেলার অন্যান্য স্কুলের তুলনায় যথেষ্ট ভাল অবস্থানে রয়েছে। শিক্ষক কর্মচারীদ্বয় যথা সময়ে স্কুলে আসেন এবং সঠিক পাঠদান কর্মসূচী দায়িত্ব সহকারে পালন করেন। আমরা অনেক সময় কাগজ ক্রয় সহ বিদ্যালয়ের নানান কর্মসূচি ও আনুষঙ্গিক খরচ নিজেদের পকেট থেকে করে থাকি। তবুও কোনো অনৈতিকতা ও দূর্নীতি অনিয়মকে প্রস্রয় দেই না এবং প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কোনো রকম অবহেলা করিনা। এই বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য ও ভালবাসা সবসময় ছিলো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। শুধু দরকার যথাযথ দাপ্তরিক সহযোগিতা। তবে ছাত্র ছাত্রী ভর্তির সংখ্যা কিছুটা কম হওয়ার মূলত কারন এই এলাকায় কয়েকটি নুরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানা রয়েছে এবং এখানকার শতভাগ মানুষ/ পরিবার মুসলিম ধর্মাবলম্বী, তাই কোমলমতি শিশুদের তারা প্রথমেই নৈতিক ও ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা দানের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসায় ভর্তি করান। এটাই আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কম হওয়ার মূল কারন।

এলাকাবসীর একটা অংশ বলছে, শিক্ষার মান, সরকারি সুযোগ সুবিধা, শিক্ষক ও অভিভাবক এবং এলাকার সুশীল ব্যক্তিবর্গ সহ স্কুলে সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকলে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ও উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর