বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ শাহ আলম ফকিরের দৌলতপুরে শিক্ষিকার বদলি ঠেকাতে মানববন্ধনে হামলা, আহত ১০-১২ থানচিতে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫। ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৬ বছরের হাফেজ সোহানুরের চিকিৎসায় সহায়তার আকুতি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যোগাযোগে ART-এর কার্যক্রমের দাবি তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান তাড়াশের জহুরুল মহুরী জেলা দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ! ঘটনাস্থলে দুদক বিএনকেএস আয়োজনে থানচিতে যুবতীদের প্রাণিসম্পদ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষন। Whales: Giants of the Ocean

অনিয়মে জর্জরিত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

প্রতিবেদকের নাম / ৮৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

মোহন আলী স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়া ঃ নানা অনিয়মে জর্জরিত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন। এসময় বহির্বিভাগে কোন কারন ছাড়াই অনুপস্থিত মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের ২ কনসালটেন্টকে শোকজের নির্দেশও দিয়েছেন।

শনিবার (২৫ শে এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে তিনি পরিদর্শনে আসেন। তিন ঘন্টা অবস্থান শেষে দুপুর ২টার দিকে চলে যান। মূলত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ ও গত
শুক্রবার রাতে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সৃষ্ট মনোমালিন্য নিরসনের জন্যই তিনি এই ঝটিকা পরিদর্শনে এসেছিলেন বলে জানান সাংবাদিকদের।
তারা হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি সেগুলোর সত্যতা স্বীকার করে তা অতি দ্রুত নিরসনের আশ্বাসও দেন।
এসময় সাংবাদিকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাসপাতালের বহির্বিভাগে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে ৩ জন কনসালটেন্টের মধ্যে একজন উপস্থিত থাকলেও বাকি দুজন কোন কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, দুজন কনসালটেন্ট সপ্তাহে ৩-৪ দিন করে আর একজন ৪-৫ দিন করে আসেন। কিন্তু বিগত দুমাস ধরে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনুসন্ধান করে এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।সেখানে মেডিসিনের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার কাজী নাজমুল হক শাওন সপ্তাহে রবি, সোম, বৃহ:স্পতি এই তিন দিন বহির্বিভাগে রোগী দেখেন।কিন্তু শনিবার তিনি ফিঙ্গার ও হাজিরা স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডাক্তার মো: ইকরামুল হক সপ্তাহে রবি ও বুধ এই দুই দিন আসেন এবং অর্থোপেডিক্স কনসালটেন্ট ডাক্তার মোঃ ওবায়দুর রহমান রবি ও বুধবার বাদে সপ্তাহে চারদিন আসেন। কিন্তু হাজিরা খাতায় উপস্থিতি স্বাক্ষরে গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়াও অনুসন্ধানে উঠে আসে, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের ইসিজি করাতে বাহির থেকে ইসিজি মেশিন এনে জনপ্রতি ২৬০ টাকা করে নেয়া হয়। বিষ খাওয়া রোগীর বিষ তোলার ক্ষেত্রে এখানে রোগী প্রতি ২-৩ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ক্যাপাসিটির দোহাই দিয়ে জেনারেটর চালানো হয় না। রোগীদেরকে হাসপাতাল থেকে প্রদেয় অস্থায়ী বেডশীট না দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এছাড়াও রোগীদেরকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাওয়ার সামগ্রী প্রদান না করার অভিযোগও উঠে এসেছে।
নওদাপাড়ার ইদ্রিস আলীর মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন জানান, তার নিজের বিষ তুলতে ২ হাজার টাকা নিয়ে নিয়েছে হাসপাতাল লোকজন।
মোহন ইসলাম জানান, তার নিজের ও তার মায়ের ইসিজি করার জন্য বাহির থেকে মেশিন এনে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিনি বারংবার চেষ্টা করেও তাদের রুখতে পারেননি।
এদিকে শনিবার পরানখালি গ্রাম থেকে সেবা নিতে আসা আরিফা সুলতানা জানান, ‘বহির্বিভাগে এসেছি মেডিসিন ডাক্তার দেখাবো বলে তিনি নাই। আমার সাথে আরও দুজন এসেছে ডাক্তার দেখাবে বলে, সে ডাক্তারও আজকে আসেনি। কয়দিন থেকে ঘুরছি কোন লাভ হচ্ছে না।’ উপরিউক্ত তথ্যসমূহ তুলে ধরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে প্রশ্ন করলে তিনি চুপ থাকেন।
এসময় স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাক্তার জাহিদ রায়হান বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করতে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার এস এম কামাল হোসেন ও উপজেলা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দেন। তিনি আরও বলেন, এরপরেও যদি এগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে, তাহলে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বিধি মোতাবেক প্রতিটি কনসালটেন্টকে ছয় দিন অফিস করার নির্দেশনা দেন। সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীদেরকে শোকজ করারও নির্দেশনা দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর