বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৬ বছরের হাফেজ সোহানুরের চিকিৎসায় সহায়তার আকুতি

প্রতিবেদকের নাম / ১৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: ক্যান্সারের নির্মম থাবায় থমকে গেছে ১৬ বছরের এক কোরআনে হাফেজের সুন্দর ভবিষ্যৎ। বাঁচার আকুতি নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে ২৫ পারা কোরআনের হাফেজ মো. সোহানুর রহমান। সে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের বড় মাঝদক্ষিণা গ্রামের নিঃস্ব কৃষক মো. নজরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে হঠাৎ সোহানুরের শরীরে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয় তার বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই। দীর্ঘ তিন বছর ধরে জমিজমা ও সহায়-সম্বল বিক্রি করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন তার বাবা-মা।

তবে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরও সোহানুর পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় সম্প্রতি চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে তার বাম পা কেটে ফেলেন। বর্তমানে সে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কিন্তু অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও পরবর্তী থেরাপির খরচ জোগাতে পারছে না পরিবারটি। টাকার অভাবে অনেকটা থমকে গেছে তার চিকিৎসা। বর্তমানে হাসপাতালের বেডে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটছে সোহানুরের।

ছেলের করুণ পরিণতি দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা সূর্য খাতুন বলেন, “আমার একমাত্র নাড়িছেঁড়া ধন শুধু বেঁচে থাকতে চায়। জমিজমা যা ছিল সব বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসায় শেষ করেছি। এখন হাতে এক টাকাও নেই যে ওষুধ কিনে দেব। আপনাদের একটু সহযোগিতায় হয়তো আমার সোনামণিটা সুস্থ হয়ে উঠবে।”

অসহায় বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, “একমাত্র ছেলেকে চোখের সামনে তিলে তিলে শেষ হতে দেখছি। কিন্তু বাবা হয়েও কিছু করতে পারছি না। পা-টা তো হারিয়েছেই, এখন জীবনটাই না চলে যায়—সেই ভয়ে দিন কাটছে। ডাক্তাররা বলেছেন, চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে সে ভালো হতে পারে। কিন্তু সেই সামর্থ্য আমার আর নেই।”

তিনি আরও বলেন, “সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা আমার ছেলেটার পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সহযোগিতায় হয়তো আমার সন্তান আবার সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবে।”

কোরআনের হাফেজ সোহানুর রহমানকে বাঁচাতে এবং তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সমাজের সহৃদয়, বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
নগদ (বাবা—নজরুল ইসলাম): ০১৭২২-৬৯৬৮৩১


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর