নেছারাবাদে সাবেক সচিবের বিরুদ্ধে মসজিদের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ
সোহেল রায়হান, জেলা প্রতিনিধি (পিরোজপুর)ঃ
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ২ নং সোহাগদল ইউনিয়নের পশ্চিম সোহাগদল এলাকায় পশ্চিম সোহাগদল জামে মসজিদের নামের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের মসজিদের নামে জনৈকের দান করা প্রায় ৫.৩৩ শতাংশ জায়গা সহ প্রায় ৬ শতাংশ জায়গা দখল করে সেখানে (বসতঘর) ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম সহ স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মরহুম নুরুল আমিনের জীবদ্দশায় উক্ত জমি মসজিদের জন্য দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র মোঃ ফাইজুল আলম রানা ও মোঃ ফরিদুল আলম রনি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মসজিদের নামে জমিটি দানপত্রের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। দলিল নং ২২১, দলিলটি নেছারাবাদ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত হয়েছে ।
তবে অভিযোগ উঠেছে, পশ্চিম সোহাগদল শহীদ স্মৃতি কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মসজিদ কমিটির দীর্ঘকালের সভাপতি এবং পাঠ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব এম শামসুল হক দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির অবৈধ দখল নিয়ে সেখানে ‘মাতৃছায়া’ নামে একটি ৩ তলা (বসতঘর) ভবন নির্মাণ করেছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং মসজিদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের দাবিতে তারা সক্রিয় হন। পরবর্তীতে জমি মাপঝোপের মাধ্যমে সিমানা নির্ধারণ করা হলেও তিনি বিষয়টি সুরাহার জন্য এ যাবৎ তেমন কোনো পদক্ষেপ নেননি। এমনকি মসজিদের নামে বিভিন্ন সংস্থা ও সরকারি অনুদান/ বাজেটের লক্ষাধিক অর্থও তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা আরো জানান, মুলত তিনি শহীদ স্মৃতি কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি বিধায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মসজিদ সংশ্লিষ্ট কোনো আয় ব্যয়ের সচ্ছ হিসাব তিনি কখনোই মসজিদ কমিটি এবং মুসল্লীদের কাছে ক্লিয়ার করেননি।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে শহীদ স্মৃতি কমপ্লেক্সের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে দূর্নীতি অনিয়ম, নিয়োগ বানিজ্য, জমি দখল, জোর পূর্বক জমি অধিগ্রহণ, প্রায় ৩ বছর যাবৎ সরকারি খালের মাঝে বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা এবং নৌ চলাচলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত করা, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যপক ব্যবসা পরিচালনা করা, খালের একাংশ কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে উপরিভাগে বেশকিছু দোকানঘর স্থাপন করে ভাড়া আদায় সহ নানান অভিযোগ ও তথ্য দেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবসী।
এদিকে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি (মসজিদ কমিটির সভাপতি) এম শামসুল হক বাদী হয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ সিভিল জজ আদালত পিরোজপুর এ গত ২৯/০৩/২০২৬ তারিখ একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৩৭/২০২৬, মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মসজিদ সংগ্রাহক / আদায়কারী মোঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, মামলা দায়েরের আগে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। তিনি অবৈধ দখলদার হয়েও উল্টো আমাদের ৪৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। এতেই তার অনৈতিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমান মেলে এবং আমরা মিথ্যা হয়রানীর শিকার হই। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং আমরা আল্লাহর ঘর মসজিদ নিয়ে কোনো ঝামেলা চাইনা। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান কামনা করি এবং মামলা প্রত্যাহারের জোড়ালো দাবি জানাচ্ছি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এম শামসুল হকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, এটা আমাদের পারিবারিক অভ্যন্তরিন বিষয়। এখানে তারা যে অভিযোগ করেছে সেটা সম্পুর্ন ভিত্তিহীন। তাছাড়া জমি যাদের দখলেই নেই তারা কিভাবে জমি দান করে। তারাতো মসজিদকে তাদের দাবিকৃত জমি বুঝিয়ে দিতে পারেনি। উল্টো তারা নিজেরা (একপক্ষ) তাদের মনমত মেপে অন্যায় ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমার বসতঘর ভবনের সামনে সিমানা পিলার বসায়। আমার বসতঘরের ভবনটি প্রায় ২৫-৩০ বছর আগের করা। যেটা আমার নিজ নামের জায়গা এবং মসজিদও আমাদের নিজেদের জায়গার উপর স্থাপিত। আর মসজিদটি স্থাপিত হয়েছে ১৯২০ সালে। এতোদিন তারা বিশেষকরে বসতঘরের ভবনটি উঠানোর সময় হতে এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা বাঁধা প্রদান করেনি অথচ ইদানিং হঠাৎ করে তারা মসজিদ নিয়ে বিশৃঙ্খলা ও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এই অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, মসজিদ কারো নিজ সম্পত্তি নয়, এটা সকলের। তাই আমার নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন প্রোপাগাণ্ডা না ছড়িয়ে এবং এলাকায় কোনো রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে বিষয়টি নিয়ে সবাই একসাথে বসে সমন্বয় ও সমঝোতার মাধ্যমে একটা সঠিক সুষ্ঠু সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য সকলের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সমাধানের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।


