ভোলায় কিশোরীর মৃত্যু নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি, কুড়িগ্রামের জান্নাতী হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি উসকে দিল
স্টাফ রিপোর্টার:ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজার সংলগ্ন একটি কওমি মাদ্রাসার পাশের বসতবাড়িতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচিত ২০২৫ সালের কুড়িগ্রামের জান্নাতী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং তাদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠে।
এ ঘটনায় সচেতন মহল বলছে, সত্য ঘটনা কখনো হামলা-হুমকি কিংবা প্রভাব খাটিয়ে চাপা রাখা যায় না। কুড়িগ্রামের আলোচিত জান্নাতী হত্যাকাণ্ডেও প্রথমদিকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হলেও শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে।
কুড়িগ্রামের সেই আলোচিত ঘটনা
২০২৫ সালের মে মাসে কুড়িগ্রামে জান্নাতী নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে নিজ মেয়েকে হত্যা করেন তার বাবা-মা ও চাচি। পরে তারা প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তবে তদন্তে অসংগতি ধরা পড়লে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং একপর্যায়ে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে।
ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়।
“সত্য উদঘাটন হবেই”
ভোলার সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরেও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে ভোলা জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তারা কাজ করছেন।
সাংবাদিক সমাজ ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গণমাধ্যমের কাজ হলো সত্য তুলে ধরা। কোনো ঘটনার সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হুমকি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত।
তারা আরও বলেন, অতীতের মতো এবারও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে তারা আশা করছেন।


