https://www.profitablecpmratenetwork.com/jkbv3chnk3?key=f703ec2f3d153f1792fcf7f58f3d081a
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

রোববার থেকে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু : টিকা গ্রহন করবে ৬ মাস থেকে ১০ বছর শিশু

প্রতিবেদকের নাম / ২৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার হিসেবে নিচ্ছে সরকার। পরবর্তী সময়ে তাদের এই টিকা দিয়ে দেয়া হবে।

এদিকে দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় রুটিন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে অতিরিক্ত একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে এক মাসব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদেরই কেবল হামের টিকা দেয়া হত। তবে দেশের আপদকালীন সময়ে টিকাদানের ক্ষেত্রে বয়সসীমায় পরির্তন এসেছে। বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শিশু-কিশোররা এখন টিকা নিতে পারবে। যেসব এলাকায় বেশি সংক্রমণ ঘটেছে, সেসব এলাকায় আগে টিকাদান শুরু হবে।

হাম কী?

হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি দ্রুত অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত করতে পারে। এমনকি ভাইরাসটি বাতাস বা কোনো বস্তুর ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। সাধারণত ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০–১৪ দিন পর লক্ষণ দেখা দেয়।

লক্ষণ ও ঝুঁকি

হামের প্রাথমিক লক্ষণকে 3C দিয়ে মনে রাখা যায়। যার ব্যাখ্যায় দাড়ায়- কফ, কোরাইজা বা সর্দি, কনজাংকটিভাইটিস বা চোখ লাল হওয়া। এর সঙ্গে তীব্র জ্বর, মুখের ভেতরে কপ্লিক স্পট এবং কয়েকদিন পর শরীরে র্যাশ দেখা দেয়, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

৫ বছরের কম বয়সি শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এর বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অপুষ্ট শিশুর ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হতে পারে। হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। এমআর (মিসেলস-রুবেলা) বা এমএমআর (মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা নিরাপদ এবং অত্যন্ত কার্যকর। সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ দেওয়া হয়, যা শিশুকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়।

আক্রান্ত শিশুর যত্নে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর