মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন

৬০ দিনের আদেশ ১০ মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি, ঈশ্বরগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারে হাহাকার।

প্রতিবেদকের নাম / ৭১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য ৬০ দিনের আদেশ ১০ মাসেও সংশ্নিষ্ট প্রশাসন বাস্তবায়ন না করায়,হয়রানির অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু এক পরিবার। জেলার ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ী ইউনিয়নের উওরবণগাও (করবাড়ী) গ্রামের এক সংখ্যালঘু বীরমুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে দীর্ঘ ১০ মাসেও কোনো কার্যকর নিষ্পত্তি না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা সি.এস রেকর্ড অনুযায়ী জোতদার হিসেবে ভোগদখলকার থাকাবস্থায় পরবর্তীতে আর.ও.আর রেকর্ড ভুলক্রমে ভিন্ন,ভিন্ন,ব্যক্তির নামে পৃথক,পৃথক খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হলে তারা আইনানুগ প্রতিকার প্রার্থনায় বিজ্ঞ ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা নং ১১২/১৯৭৭ দায়ের করেন এবং রায় প্রাপ্ত হন। উক্ত রায়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ৫৪ ধারার বিধান অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধন করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এস.এ দাগে বকেয়া খাজনা গ্রহণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মালিকানা স্বীকৃত হয়। পরবর্তীতে একই জমি বি.আর.এস রেকর্ডে ভুলবশত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ-এর নামে বাজার শ্রেণিতে রেকর্ডভুক্ত করা হলে ভুক্তভোগী পরিবার পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হয়। এবং উক্ত মামলায় আদালত কর্তৃক নিয়োজিত কোর্ট আমিন কমিশনার তদন্ত শেষে উপজেলার আঠাবাড়ী ইউনিয়নের গলকুন্ডা মৌজার সি.এস খতিয়ান নং ২৬ ও ৪২, এস.এ খতিয়ান নং ৪০১, সি.এস দাগ নং ৬২ ও ৬৩ এবং বি.আর.এস দাগ নং ৭৫৯, ৮২৮, ৮২৯, ৮৩০ ও ৮৩১ এর মোট জমির পরিমাণ ৩৭ শতাংশ জমি পরিমাপ ও প্রতিবেদন প্রদান করেন এবং পৃথক স্কেচ ম্যাপ দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত পুর্ববর্তী মামলার রায়,খাজনা পরিশোধ,কোর্ট আমিন কমিশানারের পরিমাম প্রতিবেদন ও প্রয়জনীয় কাগজপত্রাদির আলোকে ভুক্তভোগীদের স্বত্ব বহাল রেখে পক্ষে জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ এর বিরুদ্ধে বি.আর.এস রেকর্ড সংশোধনের রায় প্রদান করেন। কিন্ত উক্ত রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনিকভাবে নতুন খতিয়ান খোলা ও বি.আর.এস দাগে খাজনা গ্রহণের জন্য এই পরিবারটি লিখিতভাবে একাধিকবার আবেদন জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বরং তাদের এই জমির পার্শ্বে সরকারি জমি সংযুক্ত আছে এই অজুহাতে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগে জানায়, জানা যায় এব‍্যাপারে সরকার পক্ষে পর,পর দুইজন সহকারী কমিশনার (ভুমি) ঈশ্বরগঞ্জ সংশ্নিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে এই পরিবারের জমিটিকে ব‍্যক্তিগত মালিকানা ভুমি ও হাইকোর্টের রায় আছে এই মন্তব‍্য উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছে এবং আমিন কমিশনার তার প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের এই জমি পৃথকভাবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার প্রার্থনায় এ ব‍্যাপারে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ৮২৩১/২০২৫ দায়ের করে। উক্ত রিটের প্রেক্ষিতে গত ১৯ মে ২০২৫ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিবাদীগণকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ (Rule Nisi) প্রদান করেন এবং একই সঙ্গে প্রাপ্তির তারিখ হতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আবেদনের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী,নির্ধারিত সময়সীমা ৬০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর আরও প্রায় ১০ মাস অতিক্রান্ত হলেও জেলা প্রশাসক,ময়মনসিংহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব),ময়মনসিংহ, সহকারী কমিশনার (ভূমি), ঈশ্বরগঞ্জ এবং আঠারবাড়ী ইউনিয়ন (ভুমি):সহকারী কর্মকর্তা, কেউই উক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনোা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে এই পরিবারটি হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি পালন না করায়,উকিলের মাধ‍্যমে লিগ‍্যাল নোটিশ দেওেয়ার পর দাপ্তরিক চিঠিপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি “প্রক্রিয়াধীন” প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলেও তা হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে “নিষ্পত্তি” হিসেবে গণ্যযোগ্য নয় বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করেন যে, তারা বার,বার হাইকোর্টে আদেশ প্রতিপালনের জন্য সংশ্নিষ্ট প্রশাসনের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন ও সর্বশেষ লিগ‍্যাল নোটিশ প্রদান করেও প্রতিকার না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। লিগ‍্যাল নোটিশ পাওয়ার পর এব‍্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি ) ঈশ্বরগঞ্জ তিনি এই পরিবারের সদস্য তাপস করকে মোবাইলের মাধ‍্যমে জানায় যে,লিগ‍্যাল নোটিশ কি আপনি পাঠিয়েছেন, মামলা করার জন্য নাকি,তিনি আরও বলেন আমিতো আমার কাজ করে দিয়েছি এবং এব‍্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নিকট প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন‍্য পেন্ডাড্রাক্স নকশায় পেরীফেরি ভুমি ও মালিকানা ভুমি ষ্পষ্ট করে উল্লেখ করে দিয়েছি আপনার পয়সা বেশী হয়েছে উকিল নোটিশ ও এব‍্যাপারে মামলাায় পয়সা খরচ না করে তদবির করে অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক ময়মনসিংহ এর নিকট হইতে ফাইলটি ছাড়িয়ে আনার জন্য বলেন। হাইকোর্ট বিভাগের সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক নির্দেশ দীর্ঘ সময় অমান্য থাকা,নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন এবং কার্যকর নিষ্পত্তির অনুপস্থিতি বিষয়টি আইনের শাসন ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর