বোর্ডিং কার্ড আটকে ৩০ হাজার টাকা দাবি—যাত্রী হয়রানির ভয়াবহ অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি ঃ দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেন দিনে দিনে যাত্রী হয়রানির এক আতঙ্কজনক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। সর্বশেষ এক যাত্রীর অভিযোগে উঠে এসেছে বোর্ডিং কার্ড আটকে রেখে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির গুরুতর ও লোমহর্ষক তথ্য।
ভুক্তভোগী যাত্রী জানান, ফ্লাইট ছাড়ার এখনও প্রায় এক ঘণ্টা সময় বাকি থাকলেও রহস্যজনক কারণে তাকে বোর্ডিং কার্ড দেওয়া হয়নি। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় জানানো হয়—“ম্যানেজ করলে বোর্ডিং কার্ড পাওয়া যাবে”।
পরবর্তীতে সরাসরি ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হলে যাত্রী বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমান ধরার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন অবৈধ অর্থ দিতে হবে? এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যাত্রীকে মানসিকভাবে চাপে ফেলা হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিমানবন্দরের ভেতরে একটি শক্তিশালী দালাল ও ঘুষচক্র সক্রিয়, যারা বিশেষ করে প্রবাসী, বিদেশগামী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নিয়মিত অর্থ আদায় করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ফ্লাইট মিস করানোর ভয় দেখানো হয়—যা এক ধরনের অঘোষিত জিম্মি ব্যবস্থা।
এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন যাত্রীর ব্যক্তিগত ভোগান্তি নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য ভয়াবহ হুমকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরে প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্য চলতে থাকলে বাংলাদেশ বিদেশে যাত্রীবান্ধব দেশ হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। তারা আরও বলেন, জিরো টলারেন্স নীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এই অপচর্চা বন্ধ হবে না।
এ ঘটনায় যাত্রী ও সচেতন মহল জোর দাবি জানাচ্ছেন
বিমানবন্দর থেকে দালাল ও ঘুষচক্র সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে একটি প্রকৃত যাত্রীবান্ধব বিমানবন্দর গড়ে তুলতে হবে








