কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা।
আমিনুল ইসলাম রিয়াদসন্দ্বীপ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি। ঃ ভাড়া পুনর্নির্ধারণের পর অচলাবস্থা, ট্রলার ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা-সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া নৌরুটে সরকারিভাবে নতুন ভাড়া নির্ধারণের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুই ঘাটে শত শত যাত্রী আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। একই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে চলাচলকারী ট্রলারগুলোতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত ১১ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ রুটে স্পিডবোটের ভাড়া জনপ্রতি ২৬০ টাকা নির্ধারণ করে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ছন্দা পাল স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনের আগে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে ইজারাদার পক্ষ যাত্রীপ্রতি ৩০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করে আসছিল।
নতুন ভাড়া কার্যকরের পর লোকসানের আশঙ্কার কথা জানিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ।
এতে কুমিরা ও গুপ্তছড়া ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
এদিকে স্পিডবোট বন্ধ থাকায় সুযোগ নেয় ট্রলারচালকরা—এমন অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। আগে যেখানে জনপ্রতি ২০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো, সেখানে বর্তমানে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেন কয়েকজন যাত্রী।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, হঠাৎ স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রলারে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে ইজারাদার জগলুল হোসেন নয়ন বলেন, দেশের অন্যান্য নৌরুটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ রুটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। বর্তমান ভাড়ায় স্পিডবোট পরিচালনা করলে লোকসান গুনতে হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক নয়ন শীল বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। বর্তমানে
এ রুটে সি-ট্রাক ও জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ফলে যাত্রীদের যাতায়াতে বড় ধরনের সংকট হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
Leave a Reply




