কমলনগরে চলছে ‘মাটি কাটার মহোৎসব’ প্রশাসনের নীরবতায় ধ্বংসের মুখে কৃষি ও জনজীবন
মো: আমজাদ হোসাইন, কমলনগর প্রতিনিধি –
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলাজুড়ে চলছে প্রকাশ্য ও বেপরোয়া মাটি কাটার উৎসব। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে অবৈধ ইটভাটা মালিকরা দিবা-রাত্রি ভেকু মেশিন নামিয়ে কৃষি জমির টপসয়েল লুটে নিচ্ছে—যেন দেখার কেউ নেই, বলার কেউ নেই।

কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বর্তমানে পরিণত হয়েছে মাটিখেকোদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে। ফসলি জমি কেটে নেওয়া হচ্ছে অবৈধ ইটভাটার কাঁচামাল হিসেবে। এতে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে উর্বর কৃষিজমি, অন্যদিকে চরম হুমকির মুখে পড়ছে এলাকার পরিবেশ, সড়ক যোগাযোগ ও মানুষের জীবনযাত্রা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দিন-রাত অবিরাম ভেকু মেশিনের শব্দে এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ও ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুলগামী শিশু ও পথচারীরা। অনেক অভিভাবক ভয়ে সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে পারছেন না।
মাটি কাটার ফলে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক ভেঙে পড়ছে, আশপাশের জমিতে ফাটল দেখা দিচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে বহুগুণ। কৃষকরা বলছেন, টপসয়েল তুলে নেওয়ায় জমি আর চাষযোগ্য থাকবে না—এটি সরাসরি কৃষির মৃত্যু ডেকে আনছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও অদৃশ্য কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে জন্ম নিয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। প্রশ্ন উঠছে—তবে কি অবৈধ ইটভাটা মালিকরা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে এই সর্বনাশা কর্মকাণ্ড?
স্থানীয়রা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ, ইটভাটা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কি জনস্বার্থে জেগে উঠবে, নাকি কমলনগর উপজেলার উর্বর কৃষিজমি মাটিখেকোদের লোভের বলি হয়েই ইতিহাসে ঠাঁই নেবে।








