বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ শাহ আলম ফকিরের দৌলতপুরে শিক্ষিকার বদলি ঠেকাতে মানববন্ধনে হামলা, আহত ১০-১২ থানচিতে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫। ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৬ বছরের হাফেজ সোহানুরের চিকিৎসায় সহায়তার আকুতি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যোগাযোগে ART-এর কার্যক্রমের দাবি তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান তাড়াশের জহুরুল মহুরী জেলা দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ! ঘটনাস্থলে দুদক বিএনকেএস আয়োজনে থানচিতে যুবতীদের প্রাণিসম্পদ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষন। Whales: Giants of the Ocean

বিচারক শূন্যতায় ৩৭ দিন ধরে অচল সন্দ্বীপ আদালত ভোগান্তিতে চার লাখ মানুষ, থমকে আছে শতাধিক মামলার বিচার

প্রতিবেদকের নাম / ১২৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে টানা ৩৬ দিন ধরে বিচারক শূন্য থাকায় আদালতের বিচারিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে সন্দ্বীপ উপজেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) পদটি শূন্য থাকায় উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় নিয়মিত মামলার হাজিরা, জামিন, রিমান্ড, এভিডেভিড, কোর্ট ম্যারেজ, অভিযোগ গ্রহণসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে মামলার জট, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে চলমান বিচারাধীন মামলাগুলোর স্বাভাবিক অগ্রগতি।
সূত্র জানায়, বর্তমানে সন্দ্বীপ আদালতে সিভিল ও ফৌজদারি মিলিয়ে সাত শতাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিচারক না থাকায় এসব মামলার কার্যক্রম একপ্রকার স্থবির হয়ে আছে।
এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম শহরের সহকারী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে প্রয়োজনীয় বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন। এতে সময়, অর্থ ও শারীরিক শ্রম—সবদিক থেকেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্দ্বীপ একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় চট্টগ্রাম শহরে যেতে হলে সাগর ও স্থলপথ মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি হাজিরার জন্য পুরো দিন কিংবা একাধিক দিন নষ্ট হয়ে যায়। এতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কেউ কেউ এ অবস্থাকে সাধারণ মানুষের প্রতি নির্মম হয়রানি হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন।
সন্দ্বীপ উপজেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হয় উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে। থানায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরও এ আদালতেই হাজির করার বিধান রয়েছে। বর্তমানে এই আদালতে প্রায় সাত শতাধিক মামলা বিচারাধীন থাকলেও বিচারক না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
সন্দ্বীপ উপজেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনজুরুল আমীন বলেন,
“এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এখানে কোনো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নেই। থানায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার আইন থাকলেও এখন তাদের চট্টগ্রামে নিতে হচ্ছে। এতে নৌযাতায়াতজনিত ঝুঁকি ও অতিরিক্ত খরচের কারণে সাধারণ মানুষ দ্বিগুণ ভোগান্তিতে পড়ছেন। ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।”
এ অবস্থায় দ্রুত বিচারক নিয়োগ দিয়ে সন্দ্বীপ আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবী, ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর